3rd sem, C-6, Unit-II, याज्ञवल्क्यसंहिता (व्यवहाराध्यायः) Broad Questions-1-2 (in Bengali)


3rd sem, C-6, Unit-II, याज्ञवल्क्यसंहिता (व्यवहाराध्यायः)
Broad Questions-1-2 (in Bengali)

১.  কো নাম ব্যবহারঃ?  যাজ্ঞবল্ক্যস্য মতমবলম্ব্য চতুষ্পাদব্যবহার আলোচ্যতাম্।
উত্তরম্‌-- বি-অব-হৃ + ঘঞ্‌ --ব্যবহারঃ। এইভাবে ব্যবহার শব্দটি নিষ্পন্ন হয়েছে। ব্যবহার শব্দের সাধারণ অর্থ আচার-আচরণ। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য দেশে প্রচলিত আইন আনুসারে মামলা-মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিচার অর্থে ব্যবহার শব্দের প্রয়োগ করেছেন। আচার্য কাত্যায়ন ‘ব্যবহার’ শব্দের অর্থ করেছেন—
‘বি নানার্থেঽব সন্দেহে হরণং হার উচ্যতে।
নানাসন্দেহ-হরণাদ্‌ ব্যবহার ইতি স্মৃতঃ।।‘

এখানে ‘বি’ উপসর্গটি ‘নানা’ অর্থে, ‘অব’ উপসর্গটি সন্দেহ অর্থে এবং ‘হার’ শব্দটি হরণ করা অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে। অতএব যা বিভিন্ন সন্দেহ বা বিবাদ হরণ করে, তাই ব্যবহার।
মিতাক্ষরা টীকায় বলা হয়েছে—‘অন্যবিরোধেন স্বাত্মসম্বন্ধিতয়া কথনং ব্যবহারঃ। যথা কশ্চিদ্  ইদং ক্ষেত্রং মদীয়মিতি কথয়তি , অন্যোঽপি  তদ্‌বিরোধেন  মদীয়মিতি।‘ 
অর্থাৎ অন্যের বিরোধিতা করে কোন বস্তুকে নিজের বলে দাবী করাকে ব্যবহার বলে। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য ব্যবহারের বিষয় সম্বন্ধে বলেছেন—
‘স্মৃত্যাচারব্যপেতেন মার্গেণাধর্ষিতঃ পরৈঃ।
আবেদয়তি চেদ্‌ রাজ্ঞে ব্যবহারপদং হি তত্‌।।,
অর্থাৎ স্মৃতি ও আচার-বিরুদ্ধ পথে অপরের দ্বারা পীড়িত হয়ে যদি কেউ রাজার কাছে আবেদন করে, তাহলে তা ব্যবহারের বিষয় হয়।

চতুষ্পাদ্‌ব্যবহার
যে কোন সাধারণ   ব্যবহারের  চারটি পাদ আছে সেইজন্য  একে চতুষ্পাদ্‌ ব্যবহার বলে। ব্যবহারের চারটি পাদ হল—ভাষাপাদ, উত্তরপাদ, ক্রিয়াপাদ ও সাধ্যসিদ্ধিপাদ।
ভাষাপাদ—অর্থী যা আবেদন করবে প্রত্যর্থীর সামনে তা হুবহু লিখতে হবে। এর অন্যথা  করা যাবে না। লেখার সময় অর্থী ও প্রত্যর্থীর নাম লিখতে হবে। তাদের জাতি, গোত্র, মাস, দিন প্রভৃতিও যথাযথভাবে  লিখতে হবে। যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘প্রত্যর্থিনোঽগ্রতো  লেখ্যং যথাবেদিতমর্থিনা।
সমা-মাস-তদর্ধাহর্নামজাত্যাদিচিহ্নিতম্‌।।

উত্তরপাদ—যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—‘শ্রুতার্থস্যোত্তরং লেখ্যং পূর্বাবেদকসন্নিধৌ।।‘
অর্থীর বক্তব্য শোনার পর প্রত্যর্থী অর্থীর সামনেই তার বক্তব্য লেখাবে। এই উত্তর চার প্রকারের হতে পারেএই বিষয়ে কাত্যায়ন বলেছেন—
‘সত্যং মিথ্যোত্তরঞ্চৈব প্রত্যবস্কন্দং তথা।
পূর্বন্যায়বিধিশ্চৈবমুত্তরং স্যাচ্চতুর্বিধম্‌।।‘
সত্য বা সম্প্রতিপত্তি, মিথ্যা, প্রত্যবস্কন্দন ও পূর্বন্যায়—এই চার প্রকার উত্তর।

সত্য বা সম্প্রতিপত্তি— অর্থীর বক্তব্যকে সত্য বলে স্বীকার করা।
 মিথ্যা— অর্থীর আনীত অভিযোগ একেবারে অস্বীকার করা।
প্রত্যবস্কন্দন—অর্থীর অভিযোগের উত্তরে প্রত্যর্থী যদি বলে—‘আমি অমুকের কাছ থেকে ধার নিয়েছি, আবার ফেরতও দিয়েছি‘  অথবা,  ‘নিয়েছি, কিন্তু দান হিসাবে পেয়েছি, ধার হিসাবে নয়’ তাহলে এই উত্তরকে প্রত্যবস্কন্দন বলে।
পূর্বন্যায়—অর্থীর অভিযোগের পর প্রত্যর্থী যদি বলে—‘এ ব্যাপারে আমি পূর্বে অভিযুক্ত হয়েছিলাম এবং ব্যবহারের দ্বারা অর্থীকে পরাজিত করেছি’, তাহলে উত্তরটি হবে পূর্বন্যায়।

 ক্রিয়াপাদ – যাজ্ঞবল্ক্য ক্রিয়াপাদ সম্বন্ধে বলেছেন—
‘ততোঽর্থী লেখয়েত্‌ সদ্যঃ প্রতিজ্ঞাতার্থসাধনম্‌।‘
প্রত্যর্থীর বক্তব্য নথিভুক্ত হওয়ার পর অর্থী সঙ্গে সঙ্গে তার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করবে। কারণ, প্রমাণের উপর অর্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করে। এই প্রমাণ তিন প্রকার—লেখ্য, ভুক্তি ও সাক্ষী। যেখানে প্রত্যর্থী অর্থীর অভিযোগ স্বীকার করে নেয়, সেখানে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। 
সাধ্যসিদ্ধিপাদ—অর্থীর প্রদর্শিত প্রমাণের উপর জয়-পরাজয় নির্ভর করে। অর্থীর নিবেদিত প্রমণ যদি সত্য বলে বিবেচিত হয়, তাহলে অর্থী জয়লাভ করে। আর যদি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়, তবে তার পরাজয় হবে। এই বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘তত্‌সিদ্ধৌ সিদ্ধিমাপ্নোতি বিপরীতমতোঽন্যথা।
চতুষ্পাদ্‌ব্যবহারোঽয়ং বিবাদেষূপদর্শিতঃ।।

--------


২. কো নাম সাক্ষী? কে তাবদ্‌ যোগ্যাঃ সাক্ষিণঃ? কে চ ন? কূটসাক্ষী কথং প্রমাণীক্রিয়তে? কূটসাক্ষিণঃ দণ্ড বা কীদৃশঃ? যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতামবলম্ব্য আলোচ্যতাম্‌।

উত্তরম্‌-- তিন প্রকার প্রমাণের মধ্যে সাক্ষী অন্যতম। অন্য দুটি হল লিখিত দলিল ও ভুক্তি বা ভোগ। বিবাদে সাক্ষীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাদী ও বিবাদীর কার্যকলাপ প্রত্যক্ষভাবে দেখে এবং তাদের কথাবার্তা শুনে বিবাদের সত্যমিথ্যা নির্ণয়ে যারা সাহায্য করেন, তারাই সাক্ষী। মনু বলেছেন—
‘সমক্ষদর্শনাত্‌  সাক্ষী শ্রবণাচ্চৈব সিধ্যতি।‘

যাজ্ঞবল্ক্যের মতে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তিগণ—
১. সদ্বংশজাত, তপঃপরায়ণ, দানশীল, সত্যবাদী, ধার্মিক, সরলমতি, পুত্রবান্‌ ও ধনবান্‌ ব্যক্তিগণ সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য
২.  শ্রৌত ও স্মার্ত কর্মানুষ্ঠানে রত ব্যক্তি সাক্ষী হতে পারবেন।
৩. জাতি ও বর্ণ অনুসারে সাক্ষী নিযুক্ত হবেন।
৪. বাদী ও বিবাদীর অনুমতিসাপেক্ষে একজন ধর্মজ্ঞ ব্যক্তি সাক্ষী হতে পারেন।
৫. গোপনে পরস্ত্রীহরণ, চুরি, বাক্‌পারুষ্য, সাহস প্রভৃতি ক্ষেত্রে সকলেই সাক্ষী হতে পারেন।

যাজ্ঞবল্ক্যের মতে সাক্ষ্য দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিগণ
১. স্ত্রীলোক, ১৬ বছরের কম বয়স্ক বালক, ৮০ বছরের বেশী বয়স্ক বৃদ্ধ, পাশাখেলায় আসক্ত ব্যক্তি, মদ্যপানে মত্ত, উন্মত্ত, ব্রহ্মহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ সাক্ষ্য দিতে পারবেন না।
২. অভিনেতা, চারণ, নির্গ্রন্থ বা যাদের নিয়মবন্ধন নেই, ভণ্ড, প্রবঞ্চক, কূটকর্মকারী, বিকলেন্দ্রিয়, পতিত, বাদী বা বিবাদীর  নিকটাত্মীয়, যার সঙ্গে  বাদী-বিবাদীর  আর্থিক  লেনদেন আছে, যে বাদী বা বিবাদীর সঙ্গে একই কাজ করে (সহায়), বাদী বা বিবাদীর শত্রু –এরা কেউই সাক্ষ্য দিতে পারবে না।
৩. চোর, দুষ্কর্মকারী, প্রত্যক্ষভাবে দোষী এবং স্বজন-পরিত্যক্ত ব্যক্তি –এরাও সাক্ষ্য দিতে পারবে না।

কূটসাক্ষী বা মিথ্যাসাক্ষী নিরূপণ করার উপায়— যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘উক্তেঽপি সাক্ষিভিঃ সাক্ষ্যে যদ্যন্যে গুণবত্তমাঃ।
দ্বিগুণা বাঽন্যথা ব্রূয়ুঃ কুটাঃ স্যুঃ পূর্বসাক্ষিণঃ।।,

--সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেওয়ার পর যদি আর বেশী গুণসম্পন্ন ব্যক্তিগণ বা দ্বিগুণ সংখ্যক লোক বিপরীত কথা বলে, তাহলে পূর্বের সাক্ষীরা কূটসাক্ষী বা মিথ্যাসাক্ষী বলে গণ্য হবে।

মিথ্যাসাক্ষীর সাধারণ লক্ষণ—
ধর্ম ও স্মৃতিশাস্ত্রে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক দেখায়। সে একস্থানে স্থির থাকতে পারে না, অস্থিরভাবে ঘুরে বেড়ায়, চঞ্চল হয়ে পায়চারি করে, কোন কারণ ছাড়াই বারবার দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়ে, কখনো মাটিতে পা দিয়ে দাগ কাটে, কখনো হাত বা  হাতে ধরা যন্ত্র কাঁপাতে থাকে, মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়, সবসময় এদিক ওদিক তাকায়, জিজ্ঞাসা না করলেও ব্যস্তসমস্তভাবে অনেক কথা বলতে থাকে।

কূটসাক্ষী বা মিথ্যাসাক্ষীর দণ্ড—যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন—
‘পৃথক্‌ পৃথক্‌ দণ্ডনীয়াঃ কূটকৃত্‌সাক্ষিণস্তথা।
বিবাদাদ্‌ দ্বিগুণং দ্রব্যং বিবাস্যো ব্রাহ্মণঃ স্মৃতঃ।।‘

--মিথ্যাসাক্ষী নিয়োগকারীকে কূটকৃত্‌ বলে। বিবাদে পরাজিত হলে যে দণ্ডের বিধান আছে, তার দ্বিগুণ দণ্ড কূটকৃত্‌ ও কূটসাক্ষী উভয়কেই দিতে হবে। ব্রাহ্মণ কূটকৃত্‌ বা কূটসাক্ষী হলে তাঁকে দেশ থেকে নির্বাসন দিতে হবে।
যেখানে সত্য সাক্ষ্য দিলে কারও বধের সম্ভাবনা থাকে, সেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া যাবে বলে যাজ্ঞবল্ক্য বিধান দিয়েছেন। পরে মিথ্যাসাক্ষ্য-জনিত  পাপ থেকে মুক্তির জন্য সরস্বতী দেবীর উদ্দেশ্যে চরুপাক (এক ধরনের পিঠা) ব্রাহ্মণের দ্বারা যজ্ঞ করাতে হবে—
‘বর্ণিনান্তু বধো যত্র তত্র সাক্ষ্যনৃতং বদেত্‌।
তত্‌পাবনায় নির্বাপ্যশ্চরুঃ সারস্বতো দ্বিজৈঃ।।‘

ইচ্ছাকৃতভাবে সাক্ষ্য না দেওয়ার দণ্ড— শপথবাক্য শোনার পর কেউ যদি সাক্ষ্য না দেয়, তাহলে রাজা তাকে দিয়ে ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ সুদসমেত  ঋণদাতাকে দেওয়াবেন এবং এক দশমাংশ নিজে নেবেন। এই শাস্তি ৪৬ তম দিনে  কার্যকর হবে। যে ব্যক্তি সব কিছু জেনেও সাক্ষ্য দেয় না, সে মিথ্যাসাক্ষীর জন্য নির্ধারিত দণ্ড পাবে।
--------

Comments

Popular posts from this blog

মনুর বিধান ও কিছু কথা

সংস্কৃতসাহিত্যের ইতিহাস (বাংলায়) ১. ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে রামায়ণের প্রভাব

সংস্কৃত নাটকের উৎপত্তি-বিষয়ক মতবাদ (Various theories on the origin of Sanskrit drama.)