যোগ কি এবং কেন করা প্রয়োজন?
যোগ কি এবং কেন করা প্রয়োজন?
মানবজাতির গৌরবময় উদ্ভাবনের মধ্যে
যোগ নিঃসন্দেহে অন্যতম প্রধান।
চিকিৎসাশাস্ত্রে যাকে preventive measure বলে যোগ হচ্ছে তাই।
রোগ হওয়ার পর তা সারানোর জন্য ওষুধ খাওয়া হল curative measure. এটা সকলেই জানেন। এখানে আমার বলার কিছু নেই। বলার কথা হল—রোগ হলে ওষুধ খাওয়ার
চেয়ে রোগ না হতে দেওয়াটাই তো বেশী ভাল তাই না?
এখন প্রশ্ন--
কীভাবে আমরা রোগ হওয়াকে আটকাতে পারি? এখানেও কথা আছে। রোগ কি শুধু দেহেরই
হয়? মনের রোগ হয় না? আমার তো মনে হয়
মনোরোগীর সংখ্যাই এখন বেশী। সত্যি বলতে কি
আমরা কম বেশী সকলেই মনের অসুখে ভুগি। আপনি একাকী ঘন্টাখানেক থেকে নিজের মনের খোঁজ
নিয়ে দেখবেন—আমি কিছু ভুল বলি নি। মাঝে মাঝে একটু একাকীত্ব ভাল, নিজেকে কিছুটা
বোঝার, জানার সুবিধে হয়। আপনি যদি নিয়মিত
যোগাভ্যাস করেন তাহলে দেখবেন—আপনার মনটা অনেক ফুরফুরে হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি—এর সঙ্গে কোন ধর্মীয় ব্যাপার জড়িত
নেই। যোগের ব্যাপারটি শোনার পর আপনি নিজেও তা বলবেন।
এখন প্রশ্ন— যোগ কি?
মহর্ষি পতঞ্জলি বললেন— ‘যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ।' (যোগসূত্র-২)
(যোগঃ চিত্তবৃত্তি-নিরোধঃ।)
--চিত্তবৃত্তির নিরোধের নাম যোগ।
এই যোগ সর্বশ্রেষ্ঠ মানসিক বল।
শান্তিপর্বে ব্যাসদেব বললেন—‘নাস্তি সাংখ্যসমং
জ্ঞানং নাস্তি যোগসমং বলম্।'
-- সাংখ্যের মত জ্ঞান নেই, যোগের মত
বল নেই। বৃত্তিনিরোধ বলতে বোঝায়—এক অভীষ্ট বিষয়ে চিত্তকে স্থির রাখা। অর্থাৎ
অভ্যাসের দ্বারা নিজের অভীপ্সিত বিষয়ে চিত্তকে নিশ্চল রাখাই হচ্ছে যোগ।
চিত্তবৃত্তির নিরোধ কীভাবে হয়?
পতঞ্জলি বললেন—‘অভ্যাস-
বৈরাগ্যাভ্যাং তন্নিরোধঃ।'
--অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা তার নিরোধ হয়। গীতাতেও যোগতত্ত্বের
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—‘অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেন তু গৃহ্যতে।'
এখানে বিবেক দর্শনের অভ্যাসকে
বুঝতে হবে। বিবেক হল ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা।
অভ্যাস কাকে বলে?
পতঞ্জলি বললেন— ‘তত্র স্থিতৌ
যত্নোঽভ্যাসঃ।'
--নিরোধের যে প্রবাহ তার নাম
স্থিতি। সেই স্থিতির জন্য যে প্রযত্ন বা উৎসাহ সহকারে বার বার তার অনুশীলন তাই হচ্ছে অভ্যাস।
এই প্রযত্ন বা উৎসাহ ছাড়া কোন কার্যই সফল হয় না।
বৈরাগ্য হল— ‘দৃষ্টানুশ্রবিকবিষয়বিতৃষ্ণস্য বশীকারসংজ্ঞা।'
--সমস্ত চাওয়া পাওয়া থেকে
নিবৃত্তি। এটা একমাত্র সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীদের জন্যই প্রযোজ্য। গৃহীদের জন্য প্রয়োজন সংযম।
যোগের আটটি অঙ্গ আছে। পতঞ্জলি বললেন—
‘যম-নিয়মাসন-প্রাণায়াম-প্রত্যাহার-ধারণা-ধ্যান-সমাধয়োঽষ্টাবঙ্গানি’
।
--যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম,
প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি—এই আটটি যোগের অঙ্গ।
১.
যম— ‘অহিংসাসত্যাস্তেয়ব্রহ্মচর্যাপরিগ্রহা যমাঃ।'
--অহিংসা, সত্য, অস্তেয়,
ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ –এই পাঁচটি হল যম।
অহিংসা—প্রাণিপীড়ন ত্যাগ, সকলের প্রতি
মৈত্রীভাবাপন্ন হওয়া, অন্যকে ভয় না দেখানো, কটুকথা না বলা, ক্রূরতা ত্যাগ, জিঘাংসা
ত্যাগ, দ্বেষ ত্যাগ ইত্যাদি।
সত্য—যা সত্য তাই অবলম্বন করতে হবে।
সত্যেরই জয় হয়, মিথ্যার জয় হয় না--
‘সত্যমেব জয়তে নানৃতম্।'
অস্তেয়—অনুমতি ছাড়া পরদ্রব্য গ্রহণ না
করা। স্বেচ্ছায় তো নেবেই না, কুড়িয়ে পেলেও নেবে না।–-‘মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্ধনম্।'
ব্রহ্মচর্য – ইন্দ্রিয়সংযম। অপরিগ্রহ – স্বার্থপরতা ত্যাগ, প্রয়োজনের
অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ না করা।
২. নিয়ম—‘শৌচ-সন্তোষ-তপঃ-স্বাধ্যায়েশ্বরপ্রণিধানানি’।
শৌচ-- শরীর ও মনের শুচিতা হল—শৌচ।
সন্তোষ-- নিজের চেষ্টায় যা পাওয়া যায় তা
নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা হল—সন্তোষ। এই সন্তোষই সকল সুখের মূল-- ‘সর্বত্র সম্পদস্তস্য সন্তুষ্টং
যস্য মানসম্।'
গৃহীদের পক্ষে এই দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তোষ থেকে উত্তম সুখ লাভ হয়।
তপঃ—দ্বন্দ্ব সহন। দ্বন্দ্ব হল—ক্ষুধা
ও পিপাসা, শীত ও উষ্ণ, স্থান (স্থির অবস্থান) ও আসন, কাষ্ঠ মৌন ও আকার মৌন।
যারা অল্প দুঃখকষ্টে কাতর হয়,
তাদের যোগ হবে না। সেইজন্য দুঃখ সহিষ্ণুতারূপ তপস্যার দ্বারা তিতিক্ষা সাধন করতে
হবে। শরীর কষ্টসহিষ্ণু হলে এবং শারীরিক সুখের অভাবে মন বিকৃত না হলে যোগে অধিকার
জন্মে।
বাক্যপ্রয়োগ, আকার ,ইঙ্গিত
ইত্যাদির দ্বারা কিছু না জানানো হচ্ছে কাষ্ঠমৌন।
কথা না বলে শুধু আকার ,ইঙ্গিত
ইত্যাদির দ্বারা কিছু জানানো হচ্ছে আকারমৌন।
ক্ষুধা তৃষ্ণা সহ্য করলে ধ্যানের
ব্যাঘাত হয় না। আসনের দ্বারা শরীরে নিশ্চলভাব আসে।
স্বাধ্যায়ের দ্বারা মোক্ষশাস্ত্র
অধ্যয়নের ফলে বিষয়চিন্তা কম হয়, জ্ঞান বাড়ে, মনের প্রসারতা বাড়ে।
ঈশ্বর-প্রণিধান—সকল কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ঈশ্বরে সমস্ত
কর্ম সমর্পণ ।
৩. আসন— ‘স্থিরসুখমাসনম্।‘--নিশ্চলভাবে
ও সুখাবহ উপবেশনই আসন।
বিভিন্ন ভঙ্গীন্তে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিন্যাস করে নির্দিষ্ট স্থির হয়ে থাকা হল আসন।
আসন অনেক রকমের হয়—পদ্মাসন,
গোমুখাসন, মৎস্যাসন, ধনুরাসন, ভুজঙ্গাসন,
সর্বঙ্গাসন, শীর্ষাসন ইত্যাদি। পতঞ্জলি বীরাসন (অর্ধ পদ্মাসন), ভদ্রাসন, স্বস্তিক
আসন, দণ্ডাসন, সোপাশ্রয়, পর্যংক (শবাসন), ক্রৌঞ্চনিষদন, উষ্ট্রনিষদন,
যোগপট্টক ইত্যাদি আসনের কথা বলেছেন।
সকল আসনেই শিরদাঁড়াকে সোজা রাখার
কথা বলা হয়েছে। শরীরে যাতে কোন রকম কষ্ট না হয় এবং স্থৈর্য নষ্ট না হয় সেদিকে
খেয়াল রাখতে হবে।
আসনে যে শরীর সুস্থ থাকে, তা আর
বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা স্কুলজীবন থেকে শুরু করে আজও আসন করে যাচ্ছেন তাঁরা এই
ব্যাপারটি ভাল বোঝেন। তবে সব বয়সে সব আসন করা যায় না, শরীর পারমিট করে না। যে বয়সে
যেটা সয় সেই আসনই করা ভাল। তা না হলে অসুবিধে হতে পারে। প্রতিটি আসনের উপকারিতা
জেনে নিজের পক্ষে যেগুলি উপযোগী
সেইগুলিই নিয়মিত করে যেতে হবে।
৪. প্রাণায়াম— ‘তস্মিন্ সতি
শ্বাস-প্রশ্বাসয়োর্গতিবিচ্ছেদঃ প্রাণায়ামঃ।'
আসন সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত হলে
স্থিরচিত্তে প্রাণায়াম করতে হয়।
শ্বাস-প্রশ্বাস এর গতিবিচ্ছেদ হল প্রাণায়াম। শ্বাসগতি ও প্রশ্বাসগতি
রোধ করাই প্রাণায়াম।
এই প্রাণায়াম বাহ্যবৃত্তি,
আভ্যন্তরবৃত্তি ও স্তম্ভবৃত্তি ভেদে তিন প্রকার। তা আবার দেশ, কাল ও সংখ্যার
দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম
হয়।
প্রশ্বাসপূর্বক গতির অভাব হলে বাহ্যবৃত্তিক প্রাণায়াম,
শ্বাসপূর্বক গতির অভাব হলে
আভ্যন্তরবৃত্তিক প্রাণায়াম, বাহ্য ও
আভ্যন্তর উভয় বৃত্তির অভাব হলে স্তম্ভবৃত্তি প্রাণায়াম হয়।
এখন রেচক, পূরক ও কুম্ভক নামে প্রাণায়ামের তিনটি ভাগ বলা হয়।
যোগসূত্র উল্লিখিত বাহ্যবৃত্তি, আভ্যন্তরবৃত্তি ও স্তম্ভবৃত্তি
এবং বর্তমানের রেচক, পূরক ও কুম্ভক এক নয়।
হঠযোগ প্রদীপিকাতে যে রেচক, পূরক ও
কুম্ভক এর লক্ষণ দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে
বাহ্যবৃত্তি, আভ্যন্তরবৃত্তি ও
স্তম্ভবৃত্তির মিল আছে।
পূরকের লক্ষণ—
'বাহ্যে স্থিতং ঘ্রাণপুটেন
বায়ুমাকৃষ্য তেনৈব শনৈঃ শনৈঃ সমন্তাৎ।
নাড়ীশ্চ সর্বাঃ পরিপূরয়েৎ যঃ স
পূরকো নাম মহানিরোধঃ।।'
--বাইরের বাতাস নাক দিয়ে ধীরে ধীরে
টেনে ভেতরের সমস্ত নাড়ী পূর্ণ করে অবস্থান করা হল পূরক।
কুম্ভক-এর লক্ষণ—
‘ন রেচকো নৈব চ পূরকোঽত্র নাসাপুটে
সংস্থিতমেব বায়ুম্।
সুনিশ্চলং ধারয়েৎ ক্রমেণ
কুম্ভাখ্যমেতৎ প্রবদন্তি তজ্জ্ঞাঃ।।'
--নাসারন্ধ্রে সংস্থিত বায়ুকে
ক্রমান্বয়ে স্থিরভাবে ধারণ করে রাখার নাম কুম্ভক।
বাহ্যবৃত্তি, আভ্যন্তরবৃত্তি ও স্তম্ভবৃত্তির মিল আছে।
রেচকের লক্ষণ—
‘নিষ্ক্রাম্য নাসাবিবরাদশেষং প্রাণং বহিঃ শূন্যমিবানিলেন।
নিরুধ্য সন্তিষ্ঠন্তি রুদ্ধবায়ুঃ স রেচকো নাম মহানিরোধঃ।।'
অর্থাৎ নাক দিয়ে সম্পূর্ণরূপে শ্বাস ত্যাগ করে আর শ্বাস না নিয়ে বায়ূকে রুদ্ধ করে রাখা হল রেচক।
প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাসের
নিয়ন্ত্রণই আসল কথা। পরবর্তী যোগীরা
প্রাণায়ামের পদ্ধতির বিভিন্ন নাম দিয়েছেন। যেমন—কপাল ভাতি, অনুলোম-বিলোম, ভামরী, উদ্গীথ ইত্যাদি।
উপযুক্ত গুরুর কাছ থেকে শিক্ষা
নিয়ে তবেই প্রাণায়াম করা উচিত। প্রাণায়ামে
শরীর ও মনে এক নিবিড় প্রশান্তি আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন—প্রাণায়ামে Blood Pressure, Diabetes ইত্যাদি অনেক রোগের উপশম হয়। বর্তমানে আমাদের জীবন
বিঘ্নবহুল হওয়ায় আমরা সকলেই কমবেশি tension-এ থাকি। কর্মক্ষেত্রে, সংসারে নানা
ধরণের চাপ, অশান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই অবস্থায় যোগাসন, ধ্যান (meditation), প্রাণায়াম অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা
নিতে পারে। একদিন দুদিন করলে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম, নিয়মিতভাবে করে যেতে হবে,
তবেই সুফল পাওয়া যাবে।
গুরুপরম্পরা অনুসারে প্রাণায়ামের ধরণও আলাদা আলাদা হয়।
প্রাণায়ামের পদ্ধতি, কতক্ষণ ধরে তা করতে হবে –এই সমস্ত ব্যাপারে গুরুদের মধ্যে
মতভেদ আছে। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হোক না কেন সবেতেই সুফল পাওয়া যায়। কাজেই যে কোন
পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
৫. প্রত্যাহার— স্ব স্ব বিষয়ে অসংযুক্ত হলে
ইন্দ্রিয়গুলির যে চিত্তের স্বরূপানুকারের মতো অবস্থা হয়, তাই প্রত্যাহার। অনেকক্ষণ
প্রাণায়াম করলে ইন্দ্রিয়ে নিরোধের ভাব গাঢ়তর হতে থাকে, তখন প্রত্যাহার খুব সহজে
হয়। এই প্রত্যাহার থেকেই ইন্দ্রিয় বশীভূত হয়।
৬. ধারণা— ‘দেশবন্ধশ্চিত্তস্য ধারণা।'
--নাভিচক্র, হৃৎপদ্ম, মূর্ধজ্যোতি,
নাসিকাগ্র, জিহ্বাগ্র ইত্যাদি স্থানে
চিত্তকে সংস্থিত করে রাখা হল ধারণা।
৭. ধ্যান—‘তত্র প্রত্যয়ৈকতানতা
ধ্যানম্।'
অভ্যাসের দ্বারা ধারণাতে ধ্যেয়
বিষয়ক প্রত্যয়ের (জ্ঞানের) যে একতানতা বা অখণ্ডরূপে প্রবাহ, তাই ধ্যান। এটা চিত্তস্থৈর্যের অবস্থাবিশেষ।
৮. সমাধি—‘তদেবার্থমাত্রনির্ভাসং
স্বরূপশূন্যমিব সম্মাধি।'
--ধ্যানের চরম উৎকর্ষের নাম
সমাধি। ধ্যান করতে করতে যখন আত্মহারা হয়ে
যাওয়া যায়, যখন কেবল ধ্যেয় বিষয়ের সত্তারই উপলব্ধি হতে থাকে এবং নিজের সত্তাকে
ভুলে যাওয়া যায়, যখন ধ্যেয় বিষয় থেকে নিজের পার্থক্য বোধ না, ধ্যেয় বিষয়ে সেইরকম
চিত্তের স্থিরভাবকে বলে সমাধি। এই সমাধির দ্বারাই আত্মসাক্ষাৎকার হয়।
এগুলি অনেক উচ্চ মার্গের কথা। তা
বুঝে জীবনে অনুসরণ করতে হলে উপযুক্ত সদ্গুরু যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মানসিক
দৃঢ়তা ও লক্ষ্যে অবিচলভাব। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে আসন ও প্রাণায়ামই বেশী
প্রয়োজনীয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ
থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় challenge. আসন ও প্রাণায়াম আমাদের সেই challenge-এর মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে। তাহলে আসুন আমরা বেশী দেরী না করে শুরু
করে দিই।
--------

Comments
Post a Comment